সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি আব্দুল্লাহ আল জাবের। শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের এই সদস্য সচিবের আহত ও ‘গুলিবিদ্ধ’ হওয়ার খবর সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই আর্টিকেলে আমরা জানবো কে এই আব্দুল্লাহ আল জাবের, সেদিন আসলে কী ঘটেছিল, এবং তার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ খবর।
একনজরে: জাবের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা
- ঘটনার তারিখ: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (শুক্রবার)
- স্থান: রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও শাহবাগ এলাকা, ঢাকা।
- ব্যক্তি: আব্দুল্লাহ আল জাবের (সদস্য সচিব, ইনকিলাব মঞ্চ)।
- দাবি: সংগঠনের দাবি, পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হয়েছেন।
- সরকারি ভাষ্য: পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনী কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র (Live Bullet) ব্যবহার করেনি; টিয়ারশেল বা সাউন্ড গ্রেনেডে তিনি আহত হতে পারেন।
- প্রেক্ষাপট: শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে যাত্রা।
কে এই আব্দুল্লাহ আল জাবের?
আব্দুল্লাহ আল জাবের বর্তমানে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী এবং জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি বিচার চেয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
তার নেতৃত্বেই ইনকিলাব মঞ্চ বিভিন্ন সময় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে হাদি হত্যার তদন্ত ও বিচার দ্রুত করার দাবি জানিয়ে আসছে।
আসলে কী ঘটেছিল?
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বে একটি বিশাল মিছিল শাহবাগ থেকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার (প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) দিকে রওনা দেয়। তাদের মূল দাবি ছিল জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।
ঘটনার ধাপে ধাপে বিবরণ:
- মিছিলের শুরু: দুপুরের পর শাহবাগ মোড় থেকে মিছিলটি যমুনার দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
- পুলিশের বাধা: ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিলটি আটকানোর চেষ্টা করে।
- সংঘাত: আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
- আহত হওয়ার খবর: এই সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আব্দুল্লাহ আল জাবের রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। তার শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হতে দেখা যায়। সহযোদ্ধারা দাবি করেন, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ নোট: ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ ও প্রেস রিলিজে দাবি করা হয়, “সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।” তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (DMCH) নেওয়া হয়।
মেডিকেল রিপোর্ট ও সরকারি বক্তব্য
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। স্বচ্ছতার স্বার্থে উভয় পক্ষের বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো:
| পক্ষের নাম | বক্তব্যের সারাংশ |
| ইনকিলাব মঞ্চ (আন্দোলনকারী) | দাবি করা হয়, পুলিশ সরাসরি গুলি চালিয়েছে এবং জাবেরসহ একাধিক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের শরীরে বুলেটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। |
| অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও পুলিশ | সরকারের প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, যমুনার সামনে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র (Lethal Weapon) ব্যবহার করা হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে। |
| চিকিৎসক (ঢাকা মেডিকেল) | প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের শরীরে স্প্লিন্টার বা আঘাতের চিহ্ন আছে, তবে সরাসরি ‘বুলেট ইনজুরি’র বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষার প্রয়োজন। |
কেন এই আন্দোলন?
আব্দুল্লাহ আল জাবেরের এই আন্দোলনের মূল কারণ বুঝতে হলে আমাদের একটু পেছনে তাকাতে হবে।
- শহীদ শরীফ ওসমান হাদি: তিনি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র।
- হত্যাকাণ্ড: ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি শহীদ হন।
- দাবি: জাবের ও তার সংগঠনের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে না। তারা জাতিসংঘের অধীনে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন।
জাবেরের বর্তমান অবস্থা
হাসপাতাল ও দলীয় সূত্র মতে, আব্দুল্লাহ আল জাবের বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত হলেও শরীরে আঘাত গুরুতর। চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। ইনকিলাব মঞ্চ ঘোষণা দিয়েছে, তাদের নেতার ওপর হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
শেষকথা
আব্দুল্লাহ আল জাবেরের আহত হওয়ার ঘটনা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এটি কেবল একটি সংঘর্ষ নয়, বরং জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের চলমান ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। জাবের সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
এই আর্টিকেলটি তথ্যের সততা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল ও অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট যাচাই করে লেখা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তথ্য দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।
আমি একজন জার্নালিস্ট। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জার্নালিজমে স্নাতক পাশ করেছি। বর্তমানে জাতীয় পত্রিকায় ফুল টাইম কাজ করছি। পাশাপাশি আমার নিজের নিউজ পোর্টাল BDTOPNEWS এ সময় দেই।