রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া: আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও সঠিক নিয়ম

রমজানের রোজার নিয়ত:

  • আরবি: نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم
  • বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।
  • অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজান মাসের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করছি। আপনি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

ইফতারের দোয়া (ইফতার করার সময়):

  • আরবি: اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ
  • বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু।
  • অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক দ্বারা ইফতার করছি।

পবিত্র রমজান মাস রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস। বাংলাদেশে রোজা পালনের ক্ষেত্রে সেহরির সময় রোজার নিয়ত করা এবং সন্ধ্যায় ইফতারের দোয়া পড়া আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ। তবে অনেকেই এর সঠিক নিয়ম, সময় এবং সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন।

এই আর্টিকেলে আমরা রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়ার সঠিক নিয়ম এবং এই সম্পর্কিত সাধারণ ভুল ধারণাগুলো দূর করার চেষ্টা করব।

রোজার নিয়ত: মনের সংকল্পই আসল

ইসলামী শরিয়তে যেকোনো ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো ‘নিয়ত’ বা সংকল্প। রোজার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। মুখে আরবিতে নিয়ত উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়, বরং অন্তরের দৃঢ় সংকল্পই যথেষ্ট।

নিয়ত করার সঠিক নিয়ম

  1. মনের সংকল্প ঠিক করা: রাতে ঘুমানোর আগে বা সেহরির সময় মনে মনে দৃঢ় সংকল্প করুন যে, “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আগামীকালের ফরজ রোজা রাখব।”
  2. সেহরি গ্রহণ করা: সেহরি খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে ওঠাই আপনার রোজার নিয়তের একটি বাস্তব প্রমাণ।
  3. মুখে উচ্চারণ (ঐচ্ছিক): মনের প্রশান্তির জন্য আপনি চাইলে উপরে উল্লেখিত আরবি বা বাংলা নিয়তটি মুখে উচ্চারণ করতে পারেন।

ইফতারের দোয়া ও সঠিক নিয়ম

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময়টি একজন রোজাদারের জন্য সবচেয়ে আনন্দের। হাদিস অনুযায়ী, ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া কবুল হয়।

ইফতার করার সুন্নত তরিকা

  • সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করা: সূর্যাস্ত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই ইফতার করে নেওয়া সুন্নত। দেরি করা অনুচিত।
  • কী দিয়ে ইফতার করবেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) কাঁচা বা পাকা খেজুর এবং পানি দিয়ে ইফতার করতে পছন্দ করতেন। খেজুর না থাকলে শুধু পানি বা যেকোনো হালাল খাবার দিয়ে ইফতার করা যায়।
  • দোয়া পড়া: প্রথম লোকমা খাবার বা প্রথম ঢোঁক পানি পানের ঠিক আগে “বিসমিল্লাহ” বলে ইফতার শুরু করুন এবং ইফতারের প্রচলিত দোয়াটি পড়ুন।

(বি.দ্র: ইফতার শেষ করার পর সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি দোয়া পড়ার প্রচলন রয়েছে: “যাহাবায যামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরূকু ওয়া ছাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ” যার অর্থ: পিপাসা নিবারিত হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহ চাইলে এর সওয়াব নির্ধারিত হলো – সুনানে আবু দাউদ)।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন ১: রোজার নিয়ত কি আরবিতেই করতে হবে?

উত্তর: না, রোজার নিয়ত আরবিতে করা বাধ্যতামূলক নয়। আপনি চাইলে আপনার মাতৃভাষা বাংলাতেও নিয়ত করতে পারেন। আল্লাহ সকল ভাষাই বোঝেন। মূল বিষয়টি হলো আপনার মনের ইচ্ছা।

প্রশ্ন ২: রাতে নিয়ত করতে ভুলে গেলে কি রোজা হবে?

উত্তর: হ্যাঁ, হবে। যদি আপনি সুবহে সাদিকের পর থেকে দুপুরের (যাওয়াল বা সূর্য হেলে পড়ার) আগে মনে মনে সংকল্প করে নেন যে “আমি আজ রোজা আছি”, তবে আপনার রোজা শুদ্ধ হয়ে যাবে (হানাফি মাজহাব অনুযায়ী)। তবে শর্ত হলো, এই সময়ের মধ্যে রোজা ভঙ্গের কোনো কাজ করা যাবে না।

প্রশ্ন ৩: ইফতারের দোয়া কি ইফতারের আগে পড়তে হয় নাকি পরে?

উত্তর: বাংলাদেশে প্রচলিত “আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু…” দোয়াটি ইফতার শুরু করার ঠিক আগে পড়া হয়। তবে খাবার মুখে দেওয়ার আগে অবশ্যই ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে হবে। আর তৃষ্ণা মেটানোর দোয়াটি (যাহাবায যামাউ…) ইফতারের পরে পড়া সুন্নত।

প্রশ্ন ৪: সেহরি না খেতে পারলে কি রোজা হবে?

উত্তর: সেহরি খাওয়া একটি বরকতময় সুন্নাহ। তবে কোনো কারণে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হলে এবং সেহরি খাওয়া না হলেও রোজা হয়ে যাবে। শুধু মনে মনে রোজার সংকল্প থাকলেই হবে।

তথ্যসূত্র (Sources):

  • আল-কুরআন এবং সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
  • সুনানে আবু দাউদ (ইফতারের হাদিস)।
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

Leave a Comment