যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা প্রোগ্রাম, যা ডিভি লটারি বা গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত, প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার কম এমন দেশের মানুষদের জন্য সর্বোচ্চ ৫৫,০০০ ইমিগ্রান্ট ভিসা দেয়। নিচে আবেদনের ধাপগুলো আগের নিয়ম অনুযায়ী সহজভাবে দেওয়া হলো, সঙ্গে সর্বশেষ আপডেটও যোগ করা হলো।
বর্তমান অবস্থা (অক্টোবর ২০২৬)
২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায় যে তারা লটারি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনছে এবং DV-2027 খোলার তারিখ পরে জানাবে। সেই তারিখ আর ঘোষণা করা হয়নি। এরপর একটি মামলায় আদালত নতুন সময়সূচি দিয়েছে। সেই অনুযায়ী ২৯ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের বিস্তারিত প্রকাশ করতে হবে, ১ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন খুলতে হবে এবং ৩০ দিন খোলা রাখতে হবে। নির্বাচিতদের ৩ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে জানাতে হবে।
তবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়। সরকার আপিল আদালতে এই আদেশ স্থগিতের আবেদন করেছে। স্থগিতাদেশ দেওয়া হলে পুরো সময়সূচি বদলে যেতে পারে। তাই অফিসিয়াল ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো তারিখকে চূড়ান্ত ধরবেন না।
বাংলাদেশ থেকে আবেদন করা যাবে কি?
সাধারণত না। যে দেশ থেকে গত পাঁচ বছরে ৫০,০০০-এর বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে গেছে, সেই দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারেন না। DV-2026-এ বাংলাদেশসহ ১৯টি দেশের নাগরিক অযোগ্য ছিলেন, আর ২০১২ সাল থেকেই বাংলাদেশ এই তালিকার বাইরে। নতুন নির্দেশনায় বাংলাদেশের অবস্থান বদলাবে কিনা, তা নির্দেশনা প্রকাশের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
একটি ব্যতিক্রম আছে। আপনার জন্ম অযোগ্য দেশে হলেও স্বামী/স্ত্রীর জন্মদেশ যোগ্য হলে তার ভিত্তিতে আবেদন করা যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের জন্মদেশের ভিত্তিতেও সুযোগ থাকে।
আবেদনের যোগ্যতা
জন্মদেশ যোগ্য হওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করতে হয়। সাধারণত এর মানে হলো কমপক্ষে হাইস্কুল সমমানের পড়াশোনা (বাংলাদেশে এইচএসসি সমমান ধরা হয়), অথবা গত পাঁচ বছরে এমন কোনো পেশায় দুই বছরের অভিজ্ঞতা যেখানে কমপক্ষে দুই বছরের প্রশিক্ষণ লাগে।
ধাপ ১: প্রস্তুতি নিন
অফিসিয়াল নির্দেশনা প্রকাশিত হলে প্রথমে ভালো করে পড়ুন। এরপর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আলাদা ছবি তৈরি করুন:
- ছবিটি গত ৬ মাসের মধ্যে তোলা হতে হবে।
- আকার বর্গাকার হবে, ৬০০×৬০০ থেকে ১২০০×১২০০ পিক্সেলের মধ্যে।
- ফরম্যাট JPEG, সাইজ ২৪০ কেবি-র কম।
- ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা বা অফ-হোয়াইট হবে।
- সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকাতে হবে। চশমা পরা যাবে না, আর ধর্মীয় কারণ ছাড়া মাথা ঢাকা যাবে না।
- পুরনো বা এডিট করা ছবি দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
পাসপোর্ট প্রস্তুত রাখুন। নাম, জন্মতারিখ ও জন্মস্থান পাসপোর্ট অনুযায়ী হুবহু দিন। নতুন নিয়মে DV-2028 থেকে সব আবেদনকারীকে এন্ট্রি জমার সময় বৈধ ও মেয়াদ আছে এমন পাসপোর্ট আপলোড করতে হবে। পাসপোর্ট স্ক্যান না দিলে এন্ট্রি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে।
ধাপ ২: অফিসিয়াল সাইটে যান
আবেদন করতে শুধু dvprogram.state.gov সাইটে যান। রেজিস্ট্রেশন খোলা থাকলে “Begin Entry” বা এ ধরনের বাটনে ক্লিক করুন। বর্তমানে সাইটটিতে কোনো এন্ট্রি নেওয়া হচ্ছে না।
ধাপ ৩: ফর্ম (DS-5501) পূরণ করুন
ফর্মে যে তথ্যগুলো দিতে হবে:
- ব্যক্তিগত তথ্য: পূর্ণ নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, লিঙ্গ ও বৈবাহিক অবস্থা।
- শিক্ষা বা কাজের অভিজ্ঞতা।
- পরিবারের সদস্যদের তথ্য ও ছবি। স্বামী/স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী সব অবিবাহিত সন্তানের নাম দিতেই হবে, তারা আপনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে না গেলেও।
- আপনার নিজের সচল ইমেইল ঠিকানা।
সাবমিট করার আগে সব তথ্য আবার মিলিয়ে নিন। ফর্মটি একবারে পূরণ করে জমা দিতে হয়, সাধারণত ৬০ মিনিট সময় থাকে। একজন ব্যক্তি শুধু একটি আবেদন করতে পারবেন। একাধিক আবেদন করলে সবগুলোই বাতিল হয়ে যায়।
ধাপ ৪: কনফার্মেশন নম্বর সংরক্ষণ করুন
সফলভাবে জমা দিলে একটি Confirmation Number পাবেন। এটি প্রিন্ট করুন বা স্ক্রিনশট নিয়ে নিরাপদে রাখুন। ফলাফল দেখার এটাই একমাত্র উপায়, তাই কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
ধাপ ৫: ফলাফল দেখুন
নির্ধারিত সময়ের পর একই সাইটের “Entrant Status Check” অংশে কনফার্মেশন নম্বর দিয়ে ফলাফল দেখুন। আদালতের সময়সূচি অনুযায়ী এবার এই সময় ৩ ডিসেম্বর ২০২৬। ইমেইল, এসএমএস বা চিঠিতে কোনো ফলাফল পাঠানো হয় না।
মনে রাখবেন, নির্বাচিত হওয়া মানেই ভিসা পাওয়া নয়। এরপর আলাদা আবেদন, কাগজপত্র যাচাই ও ইন্টারভিউ হয়। DV-2027-এর কোনো ভিসা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭-এর পর আর দেওয়া যাবে না।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
আবেদন ফি: আগে আবেদন সম্পূর্ণ ফ্রি ছিল। কিন্তু ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর নতুন নিয়মে এন্ট্রি জমার সময় অনলাইনে ১ ডলার রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হবে। এই ফি শুধু অফিসিয়াল সাইটেই দিতে হবে। কোনো এজেন্ট বা ওয়েবসাইট টাকা চাইলে বুঝবেন সেটা প্রতারণা।
ভুয়া বিজ্ঞাপন: ফেসবুকে “বাংলাদেশ থেকে ডিভি আবেদন চলছে” ধরনের বিজ্ঞাপন দেখা যায়, যা দেখে মনে হয় বাংলাদেশের জন্য আবার সুযোগ খুলেছে। কিন্তু বাস্তবে তা নয়।
ভুল তথ্য: ভুল তথ্য দিলে বা পরিবারের কোনো সদস্যের নাম বাদ দিলে আবেদন বা পরবর্তীতে ভিসা বাতিল হতে পারে।
সঠিক তথ্যের উৎস: শুধু travel.state.gov এবং dvprogram.state.gov সাইটের ঘোষণার ওপর ভরসা করুন।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind BDTopNews.Com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.