সংক্ষেপে
“ইসমে আজম” মানে আল্লাহর সবচেয়ে মহান নাম, যার উসিলায় দোয়া করলে আল্লাহ কবুল করেন বলে হাদিসে এসেছে। কোন নামটি ইসমে আজম, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে সহিহ হাদিসে নবীজি ﷺ কয়েকটি দোয়ার ব্যাপারে বলেছেন যে এগুলোতে ইসমে আজম রয়েছে। নিচে সেই দোয়াগুলো সূত্রসহ দেওয়া হলো।
ইসমে আজম দোয়া ১ (সূরা ইখলাসের অর্থযুক্ত)
বুরাইদা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি ﷺ এক ব্যক্তিকে এই দোয়া পড়তে শুনে বললেন, সে আল্লাহর কাছে তাঁর সেই মহান নামের উসিলায় চেয়েছে, যার মাধ্যমে চাইলে তিনি দান করেন এবং ডাকলে সাড়া দেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৯৩, তিরমিজি: ৩৪৭৫)
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্নি আশহাদু আন্নাকা আনতাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আনতাল আহাদুস সামাদুল্লাযি লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে চাইছি এই সাক্ষ্য দিয়ে যে, তুমিই আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমি এক, অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারও থেকে জন্ম নেননি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।
ইসমে আজম দোয়া ২ (ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুম)
আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি ﷺ এক ব্যক্তিকে এই দোয়া করতে শুনে বললেন, সে আল্লাহর ইসমে আজম দিয়ে দোয়া করেছে। (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৯৫, নাসায়ি)
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ يَا حَىُّ يَا قَيُّومُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্না লাকাল হামদ, লা ইলাহা ইল্লা আনতাল মান্নান, বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুম।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে চাই, কারণ সব প্রশংসা তোমারই। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমি পরম দাতা, আসমান-জমিনের স্রষ্টা। হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী, হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী।
ইসমে আজম ৩: কুরআনের তিন সূরায়
আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি ﷺ বলেছেন, আল্লাহর ইসমে আজম তিনটি সূরায় আছে: সূরা বাকারা, সূরা আলে ইমরান ও সূরা ত্বহা। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৮৫৬) আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই তিন সূরায় যে নাম মিলিতভাবে এসেছে, তা হলো “আল-হাইয়ুল কাইয়ুম”:
- সূরা বাকারা, আয়াত ২৫৫ (আয়াতুল কুরসি)
- সূরা আলে ইমরান, আয়াত ২
- সূরা ত্বহা, আয়াত ১১১
তাই দোয়ার শুরুতে বা শেষে “ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুম” বলা উত্তম।
দোয়া কবুলের আদব
- শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও নবীজি ﷺ-এর ওপর দরুদ পড়ুন।
- দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করুন, “যদি তুমি চাও” বলে দ্বিধা রাখবেন না।
- হালাল উপার্জন ও হালাল খাবার দোয়া কবুলের শর্তগুলোর একটি।
- তাহাজ্জুদের সময়, আজান ও ইকামতের মাঝে, সিজদায় এবং জুমার দিনের শেষ প্রহরে দোয়া করুন।
- তাড়াহুড়া করবেন না। “দোয়া করলাম, কবুল হলো না” বলে হাল ছেড়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
সতর্কতা: বাজারে “ইসমে আজমের তাবিজ” বা “গোপন আমল” নামে অনেক কিছু বিক্রি হয়, যার কোনো ভিত্তি নেই। হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলোই যথেষ্ট।
আরও পড়ুন: সাইয়েদুল ইস্তেগফার অর্থসহ
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind BDTopNews.Com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.