এপ্রিল ২০২৬ মাসের অমাবস্যা কবে?

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের অমাবস্যা হবে ১৭ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার।

বাংলাদেশ মান সময় (BST, UTC+6) অনুযায়ী:

  • তিথি শুরু: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪১ মিনিট
  • তিথি শেষ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার বিকেল ৫টা ৫১ মিনিট
  • মূল পালনের দিন: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার (উদয়তিথি অনুযায়ী)
  • হিন্দু মাস: বৈশাখ কৃষ্ণপক্ষ
  • বিশেষ নাম: বৈশাখী অমাবস্যা / সতুয়াই অমাবস্যা

সূত্র: DrikPanchang, ProKerala ও Banglakathan.com — বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টাইম (BST) অনুযায়ী যাচাইকৃত।

অমাবস্যা কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অমাবস্যা হলো হিন্দু চান্দ্র পঞ্জিকার সেই তিথি যখন আকাশে চাঁদ সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। প্রতি মাসের কৃষ্ণপক্ষের শেষ দিনটিকে অমাবস্যা বলা হয়। ইংরেজিতে এটি “New Moon Day” নামে পরিচিত।

সনাতন ধর্মে অমাবস্যাকে পিতৃপুরুষের স্মরণ ও আত্মার শান্তি কামনার জন্য সবচেয়ে পবিত্র দিনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এই দিনে বিশেষ পূজা-অর্চনা, তর্পণ, স্নান ও দান করে থাকেন।

এপ্রিল ২০২৬-এর অমাবস্যার বিস্তারিত তথ্য

বৈশাখী অমাবস্যা ২০২৬ — একনজরে

বিষয়তথ্য
তারিখ১৭ এপ্রিল ২০২৬
বারশুক্রবার
হিন্দু মাসবৈশাখ কৃষ্ণপক্ষ
তিথি শুরু১৬ এপ্রিল রাত ৮:৪১ (BST)
তিথি শেষ১৭ এপ্রিল বিকেল ৫:৫১ (BST)
বিশেষ নামসতুয়াই অমাবস্যা / বৈশাখী অমাবস্যা
পিতৃতর্পণের উপযুক্ত সময়১৭ এপ্রিল সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে

এই অমাবস্যা কেন বিশেষ?

  • হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, এপ্রিল ২০২৬-এ হনুমান জয়ন্তী, বরুথিনী একাদশী, সতুয়াই অমাবস্যা ও অক্ষয় তৃতীয়ার মতো বড় উৎসব রয়েছে। এই মাসে প্রায় ১৫ দিনই কোনো না কোনো ব্রত বা উৎসব পালিত হবে।
  • বৈশাখ মাস হিন্দু বর্ষের দ্বিতীয় মাস, তাই বৈশাখী অমাবস্যা পূর্বপুরুষদের স্মরণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
  • এই অমাবস্যাটিকে “হিন্দু নববর্ষের আগের শেষ অমাবস্যা” হিসেবেও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

অমাবস্যার দিন কী কী করবেন?

বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সাধারণত এই দিনে নিচের আচার-অনুষ্ঠানগুলো পালন করেন:

১. ভোরে পবিত্র স্নান সূর্যোদয়ের আগে বা সূর্যোদয়ের সময় স্নান করুন। জলে কয়েকটি তিলের দানা মিশিয়ে স্নান করলে বিশেষ পুণ্য লাভ হয় বলে বিশ্বাস।

২. ঘর ও পূজার আসন পরিষ্কার করুন পরিষ্কার পরিবেশে মন শান্ত থাকে এবং ধ্যান-পূজা আরো ফলপ্রসূ হয়।

৩. পিতৃতর্পণ বা শ্রাদ্ধ দুপুরের আগে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল ও তিল মিশিয়ে তর্পণ করুন। যারা শ্রাদ্ধ করতে পারেন, তারা এই দিনটিকে বেছে নিতে পারেন।

৪. দেবদেবীর পূজা ঘরে বা মন্দিরে পূজা করুন। এই দিনে দেবী কালীর পূজাও বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়, কারণ এটি নেতিবাচক শক্তি দূর করে এবং কর্মিক সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় বলে বিশ্বাস।

৫. দান-খয়রাত গরিব ও অসহায় মানুষদের খাবার, কাপড় বা অর্থ দান করুন। গরিব ও অসহায় মানুষদের দান করা এই দিনে বিশেষভাবে পুণ্যকর বলে বিবেচিত হয়।

৬. উপবাস সম্পূর্ণ বা আংশিক উপবাস পালন করতে পারেন। অনেকে শুধু ফলমূল ও জল গ্রহণ করেন।

৭. কাকদের খাওয়ানো অমাবস্যায় কাকদের খাবার দেওয়া শুভ বলে বিবেচিত হয়, কারণ বিশ্বাস অনুযায়ী পূর্বপুরুষরা কাকের রূপে পৃথিবীতে আসেন এবং খাবার গ্রহণ করেন।

২০২৬ সালের বাকি অমাবস্যার তারিখ

২০২৬ সালের সম্পূর্ণ অমাবস্যার তালিকা:

মাসতারিখবারবিশেষ নাম
জানুয়ারি১৮ জানুয়ারিরবিবারমৌনী অমাবস্যা
ফেব্রুয়ারি১৭ ফেব্রুয়ারিমঙ্গলবারফাল্গুন অমাবস্যা
মার্চ১৯ মার্চবৃহস্পতিবারচৈত্র অমাবস্যা
এপ্রিল১৭ এপ্রিলশুক্রবারবৈশাখী / সতুয়াই অমাবস্যা
মে১৬ মেশনিবারজ্যৈষ্ঠ / শনিশ্চরী অমাবস্যা
জুন১৫ জুনসোমবারআষাঢ় অমাবস্যা
জুলাই১৪ জুলাইমঙ্গলবারশ্রাবণ অমাবস্যা
আগস্ট১২ আগস্টবুধবারভাদ্রপদ অমাবস্যা
অক্টোবর১০ অক্টোবরশনিবারমহালয়া অমাবস্যা
নভেম্বর৯ নভেম্বরসোমবারকার্তিক অমাবস্যা
ডিসেম্বর৮ ডিসেম্বরমঙ্গলবারমার্গশীর্ষ অমাবস্যা

দ্রষ্টব্য: সকল সময় বাংলাদেশ মান সময় (BST = UTC+6) অনুযায়ী।

অমাবস্যার আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য

আধ্যাত্মিক দিক

সনাতন ধর্মে প্রতিটি অমাবস্যা তাৎপর্যপূর্ণ। অমাবস্যা হলো সেই পবিত্র সময় যখন চাঁদ অদৃশ্য হয়ে যায় এবং বায়ুমণ্ডলে একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক শক্তি প্রবেশ করে বলে বিশ্বাস।

ভারতীয় ধর্মগ্রন্থ গরুড় পুরাণ অনুসারে, ভগবান বিষ্ণু বলেছিলেন যে অমাবস্যা সেই দিন যখন মানুষের পূর্বপুরুষরা পৃথিবীতে আসেন। যদি বংশধররা তাদের উপস্থিতি উপেক্ষা করেন, তবে তা পূর্বপুরুষদের অসন্তুষ্ট করতে পারে।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি

অমাবস্যার সময় সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর একই দিকে অবস্থান করে। এর ফলে সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার পরিবর্তন ঘটে। অনেক গবেষক মনে করেন এই মহাজাগতিক বিন্যাস মানুষের শরীর ও মনে প্রভাব ফেলে, কারণ মানবদেহে ৭০% এরও বেশি জল রয়েছে।

অমাবস্যার দিন কোন কাজগুলো এড়িয়ে চলা উচিত?

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য অনুযায়ী, অমাবস্যার দিন সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়:

  • বিবাহ, গৃহপ্রবেশ, নতুন ব্যবসা শুরু বা অন্যান্য শুভ কাজ
  • মাংস বা তামসিক খাবার গ্রহণ
  • অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ
  • বড় আর্থিক লেনদেন

মনে রাখুন: এই বিশ্বাসগুলো সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও ধর্মীয়। প্রত্যেকে নিজের বিবেচনায় এবং পারিবারিক রীতি অনুযায়ী পালন করবেন।

বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

বাংলাদেশে অমাবস্যার দিন নদীতীরে বা পুকুরে তর্পণ করার প্রচলন রয়েছে। ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সৈকত, সিলেটের সুরমা নদীতীর এবং বিভিন্ন জেলার নদী বা পুকুরঘাটে এই দিন ভিড় থাকে।

পিতৃতর্পণের জন্য উপকরণ:

  • কালো তিল
  • যব বা চাল
  • দুধ বা বিশুদ্ধ জল
  • তুলসীপাতা
  • কুশ ঘাস

সাধারণ জিজ্ঞাসা ও উত্তর

প্রশ্ন ১: এপ্রিল ২০২৬-এর অমাবস্যা কত তারিখ? উত্তর: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার। তিথি শুরু ১৬ এপ্রিল রাত ৮টা ৪১ মিনিটে এবং শেষ ১৭ এপ্রিল বিকেল ৫টা ৫১ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়)।

প্রশ্ন ২: অমাবস্যা কি প্রতি মাসে হয়? উত্তর: হ্যাঁ। প্রতিটি চান্দ্র মাসে একবার অমাবস্যা হয়। বছরে সাধারণত ১২টি অমাবস্যা থাকে।

প্রশ্ন ৩: বৈশাখী অমাবস্যা বা সতুয়াই অমাবস্যা কী? উত্তর: বৈশাখ মাসের অমাবস্যাকেই বৈশাখী অমাবস্যা বা সতুয়াই অমাবস্যা বলা হয়। এই দিনে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ ও দান বিশেষ পুণ্যকর বলে বিবেচিত হয়।

প্রশ্ন ৪: অমাবস্যার দিন উপবাস করা কি জরুরি? উত্তর: জরুরি নয়, তবে অনেকে স্বেচ্ছায় উপবাস করেন। শারীরিক সক্ষমতা বুঝে সিদ্ধান্ত নিন। বয়স্ক, অসুস্থ বা গর্ভবতী নারীদের উপবাস না করাই ভালো।

প্রশ্ন ৫: অমাবস্যার দিন কি ব্যাংক বা অফিস বন্ধ থাকে? উত্তর: না। অমাবস্যার দিন বাংলাদেশে সরকারি ছুটি নেই। তবে কিছু হিন্দু মন্দিরে বিশেষ পূজার ব্যবস্থা থাকে।

প্রশ্ন ৬: এপ্রিল ২০২৬-এর পরের অমাবস্যা কবে? উত্তর: এপ্রিলের পরের অমাবস্যা হবে ১৬ মে ২০২৬, শনিবার — যা শনিশ্চরী অমাবস্যা নামে পরিচিত।

প্রশ্ন ৭: অমাবস্যায় পিতৃতর্পণ না করতে পারলে কি সমস্যা হয়? উত্তর: কোনো পঞ্জিকা বা শাস্ত্রে বলা নেই যে একটি অমাবস্যায় তর্পণ না করলে বড় সমস্যা হবে। পরবর্তী অমাবস্যায় বা মহালয়ায় করতে পারবেন।

২০২৬ সালের বিশেষ অমাবস্যাগুলো কোনগুলো?

অমাবস্যার নামতারিখবিশেষত্ব
মৌনী অমাবস্যা১৮ জানুয়ারিমৌন ব্রত পালন ও পবিত্র স্নান
বৈশাখী অমাবস্যা১৭ এপ্রিলপূর্বপুরুষ স্মরণ ও দান
শনিশ্চরী অমাবস্যা১৬ মেশনি দেবের বিশেষ পূজা
মহালয়া অমাবস্যা১০ অক্টোবরদুর্গাপূজার আগমনী বার্তা, পিতৃপক্ষ সমাপ্তি
দীপাবলি অমাবস্যা৯ নভেম্বরদীপাবলির রাত, মা কালীর পূজা

মহালয়া বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। এই অমাবস্যায় পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ঘটে এবং দেবীপক্ষের সূচনা হয়।

শেষকথা

এপ্রিল ২০২৬-এর অমাবস্যা হচ্ছে ১৭ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার। এটি বৈশাখী অমাবস্যা বা সতুয়াই অমাবস্যা নামে পরিচিত। বাংলাদেশ মান সময়ে তিথি শুরু হয় ১৬ এপ্রিল রাত ৮:৪১ মিনিটে এবং শেষ হয় ১৭ এপ্রিল বিকেল ৫:৫১ মিনিটে।

এই দিনে পিতৃতর্পণ, পূজা-অর্চনা, দান-খয়রাত এবং উপবাস পালন করা সনাতন ধর্মে বিশেষভাবে পুণ্যকর বলে বিবেচিত হয়। সঠিক সময় মেনে আচার পালন করলে আধ্যাত্মিক শান্তি ও পূর্বপুরুষের আশীর্বাদ লাভ হয় — এটাই এই তিথির মূল বার্তা।

তথ্যসূত্র ও নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • DrikPanchang.com — Amavasya 2026 Dates for Dhaka, Bangladesh
  • ProKerala.com — Amavasya in April 2026
  • Banglakathan.com — অমাবস্যা ২০২৬ তালিকা (BST)
  • Asianet News Bangla — Hindu Calendar April 2026
  • TimeandDate.com — Moon Phases 2026, Dhaka, Bangladesh

Leave a Comment