দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ তার ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ এবং ডেটা ট্রানজিটের জন্য অনেকাংশে ভারতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বর্তমানে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে, যা বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে সরাসরি বিশ্বের সাথে যুক্ত করবে।
এক নজরে: বাংলাদেশের নতুন সাবমেরিন কেবল (BPCS)
বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ভারতের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে সরাসরি সিঙ্গাপুরের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য ‘বাংলাদেশ প্রাইভেট কেবল সিস্টেম’ (BPCS) প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এটি একটি ব্যক্তিগত কনসোর্টিয়াম প্রকল্প যেখানে সামিট কমিউনিকেশনস, মেটাকর সাবক এবং সিডিনেট কমিউনিকেশনস একত্রে কাজ করছে ।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ও প্রভাব
কিছু প্রকল্পের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো:
- ভারতের নির্ভরতা মুক্তি: বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ ভারত হয়ে আসে, যার জন্য প্রতি বছর ভারতকে কয়েকশ কোটি টাকা ট্রানজিট ফি দিতে হয়। নতুন কেবল চালু হলে এই টাকা দেশেই থাকবে।
- সরাসরি সিঙ্গাপুর সংযোগ: কক্সবাজার থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই কেবল সরাসরি সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক ডেটা হাবে যুক্ত হবে।
- তথ্য নিরাপত্তা (Data Sovereignty): অন্য দেশের ভূখণ্ড দিয়ে ডেটা প্রবাহিত হলে নজরদারির ঝুঁকি থাকে। সরাসরি সংযোগের ফলে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের তথ্য এবং সরকারি সংবেদনশীল তথ্য আরও নিরাপদ থাকবে।
- প্রযুক্তিগত অংশীদার: এই প্রকল্পে ফিনল্যান্ডের বিখ্যাত কোম্পানি নোকিয়া (Nokia) তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করছে, যা উচ্চগতি এবং সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেয়।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক সুফল
- সাশ্রয়ী ইন্টারনেট: ভারতের ট্রানজিট ফি না থাকায় ব্যান্ডউইথের দাম কমবে, যার সুফল সাধারণ মানুষ ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা পাবেন।
- বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়: বছরে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- আঞ্চলিক হাব: এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নিজেই দক্ষিণ এশিয়ার ডিজিটাল ট্রানজিটের বিকল্প রুট হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
ভারতের প্রতিক্রিয়া ও ভূ-রাজনীতি
বাংলাদেশের এই স্বাধীন পদক্ষেপ ভারতের জন্য একটি ‘স্ট্রাটেজিক শক’। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই প্রকল্পটিকে ভারতের ডিজিটাল আধিপত্যের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা
প্রকল্পটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে এবং ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে এটি পুরোপুরি সচল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপ: বাংলাদেশের এই নতুন সাবমেরিন কেবল প্রকল্প কেবল প্রযুক্তির উন্নয়ন নয়, এটি একটি জাতীয় স্বাধীনতার প্রতীক। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ তার ডেটা ও ইন্টারনেটের সার্বভৌমত্ব অর্জন করতে যাচ্ছে।
আমি একজন জার্নালিস্ট। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জার্নালিজমে স্নাতক পাশ করেছি। বর্তমানে জাতীয় পত্রিকায় ফুল টাইম কাজ করছি। পাশাপাশি আমার নিজের নিউজ পোর্টাল BDTOPNEWS এ সময় দেই।