জকসু নির্বাচন ২০২৬ ফলাফল: ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান, ভিপি রিয়াজুল ও জিএস আরিফ

লিখেছেন: বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | আপডেট তারিখ: ৮ জানুয়ারি, ২০২৬

দীর্ঘ ২১ বছর পর অনুষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’। ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে রিয়াজুল ইসলাম ৫,৫৫৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে আবদুল আলীম আরিফ ৫,৪৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ৭ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক ফলাফল ঘোষণা করেন।

জকসু নির্বাচন ২০২৬: এক নজরে বিজয়ীদের তালিকা

নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের মধ্যে ১৬টিতেই জয় পেয়েছে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর ফলাফল নিচে দেওয়া হলো:

পদের নামবিজয়ী প্রার্থীর নামপ্রাপ্ত ভোটপ্যানেল
সহ-সভাপতি (ভিপি)রিয়াজুল ইসলাম৫,৫৫৮অদম্য জবিয়ান ঐক্য
সাধারণ সম্পাদক (জিএস)আবদুল আলীম আরিফ৫,৪৭৫অদম্য জবিয়ান ঐক্য
সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)মাসুদ রানা৫,০২০অদম্য জবিয়ান ঐক্য
মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদকমো. নুরনবী৫,৪০০অদম্য জবিয়ান ঐক্য
শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদকইব্রাহীম খলিল৫,৫২৪অদম্য জবিয়ান ঐক্য
পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদকমো. রিয়াসাল রাকিব৪,৬৯৮ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: দীর্ঘ ২১ বছর পর ভোট

২০০৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এটিই প্রথম জকসু নির্বাচন। এর আগে কলেজ থাকাকালীন ১৯৮৭ সালে শেষবার ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়।

নির্বাচনের পদ্ধতি ও ভোটার উপস্থিতি

এবারের নির্বাচন ছিল আধুনিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো ওএমআর (OMR) শিট এবং স্বচ্ছ ব্যালট বক্স ব্যবহার করা হয়েছে।

  • ভোটের তারিখ: ৬ জানুয়ারি, ২০২৬।
  • ভোটার উপস্থিতির হার: ৬৬.১৮ শতাংশ।
  • মোট কেন্দ্র: ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়।
  • নিরাপত্তা: বিএনসিসি, রোভার স্কাউট এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হয়।

কেন এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

জকসু নির্বাচন শুধুমাত্র একটি ভোট নয়, বরং এটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিজয়।

  • নেতৃত্বের বিকাশ: দীর্ঘ সময় ছাত্র সংসদ না থাকায় ক্যাম্পাসে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।
  • সমস্যা সমাধান: আবাসন সংকট, পরিবহন সমস্যা এবং ক্যাফেটেরিয়ার মান উন্নয়নের জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্ল্যাটফর্ম তৈরি হলো।
  • সুস্থ রাজনীতি: দলীয় লেজুড়বৃত্তির বাইরে প্যানেল ভিত্তিক এই নির্বাচন সুস্থ ধারার ছাত্ররাজনীতির পথ সুগম করেছে।

জকসু নির্বাচন নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা

১. জকসু নির্বাচনে মোট কতটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে?

মূলত ৪টি প্রধান প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে: অদম্য জবিয়ান ঐক্য (শিবির সমর্থিত), ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান (ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ), মাওলানা ভাসানী ব্রিগেড (বামপন্থী জোট) এবং ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান।

২. ভিপি ও জিএস পদে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কারা ছিলেন?

ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলামের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এ কে এম রাকিব (৪,৬৮৮ ভোট)। জিএস পদে আবদুল আলীম আরিফের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন খাদিজাতুল কুবরা (২,২০৩ ভোট)।

৩. ভোট গণনা কেন মাঝপথে স্থগিত হয়েছিল?

৬ জানুয়ারি রাতে কারিগরি ত্রুটির কারণে ৫ ঘণ্টা ভোট গণনা স্থগিত ছিল। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুনরায় গণনা শুরু হয় এবং পরদিন ফলাফল প্রকাশিত হয়।

৪. জকসু নির্বাচনের পূর্ণরূপ কী?

জকসু মানে হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (Jagannath University Central Students’ Union – JnUCSU)।

নতুন নেতৃত্বের কাছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

বিজয়ীদের কাছ থেকে জবির শিক্ষার্থীরা ৫টি প্রধান দাবি পূরণের আশা রাখছেন:

  1. নতুন হলের সিট বণ্টন: মেধার ভিত্তিতে দ্রুত হলের সিট নিশ্চিত করা।
  2. পরিবহন সংকট: বাসের সংখ্যা বাড়ানো এবং নতুন রুট চালু করা।
  3. ক্যান্টিন ভর্তুকি: খাবারের মান বাড়িয়ে দাম শিক্ষার্থীদের নাগালে রাখা।
  4. গবেষণা বরাদ্দ: লাইব্রেরি ও গবেষণাগারে বাজেট বাড়ানো।
  5. সেশন জট নিরসন: দ্রুত পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশ নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অফিসিয়াল নোটিশ, প্রথম আলো প্রতিবেদন (৭-৮ জানুয়ারি ২০২৬) এবং বাসস (BSS) নিউজ।

Leave a Comment