প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে শাহবাগ থানা এলাকায় পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ঢাবি প্রশাসন ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত: একটি ফেসবুক পোস্ট ও বিতর্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই উত্তেজনার মূল কারণ ছিল একটি ফেসবুক পোস্ট।
- অভিযোগ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার মেয়ে জাইমা রহমানকে কটূক্তি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দেওয়া হয়।
- অভিযুক্ত: এই পোস্টের জন্য ডাকসু (DUCSU) নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে ছাত্রদল।
- মাহমুদের দাবি: ডাকসু নেতা মাহমুদ এই পোস্টটিকে ‘ভুয়া’ বা ফেক বলে দাবি করেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান।
শাহবাগ থানায় পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও সংঘর্ষ
বৃহস্পতিবার রাতের পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন উভয় পক্ষই আইনের আশ্রয় নিতে যায়। নিচে ঘটনার ক্রমবিকাশ তুলে ধরা হলো:
১. থানায় মুখোমুখি: আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ যখন জিডি করতে শাহবাগ থানায় যান, ঠিক একই সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে সেখানে উপস্থিত হন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
২. ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া: থানার ভেতরে ও বাইরে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা এক পর্যায়ে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
৩. হামলার শিকার: ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক এবং এ.বি. জুবায়েরের ওপর হামলা হয়।
৪. আহত ও চিকিৎসা: এই ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হন। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
এই সংঘর্ষের পর ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবির—উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছে।
ছাত্রশিবিরের বক্তব্য
ঢাকা মেডিকেলে আহতদের দেখতে গিয়ে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সেফগাতুল্লাহ অভিযোগ করেন:
- পোস্টটি মূলত একটি আওয়ামী লীগের পেইজ বা আইডি থেকে গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
- ডাকসু নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশ থেকে বহিরাগতদের এনে শাহবাগে এই হামলা চালানো হয়েছে।
- এটি মৌলিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত।
ছাত্রদলের বক্তব্য
অন্যদিকে, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ছাত্রদল:
- তাদের অভিযোগ, ছাত্রশিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছে।
- তারা দাবি জানায়, রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে কোনো কাজ করা যাবে না, বরং প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে হবে। এই গুপ্ত রাজনীতি শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে।
সাংবাদিকের ওপর হামলা ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
সংঘর্ষের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চ্যানেল ২৪-সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা হামলার শিকার হন।
- সাংবাদিকদের ক্ষোভ: ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের একাংশ তাদের গায়ে হাত তোলে বলে অভিযোগ করা হয়। সাংবাদিকরা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে এটিকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
- ঢাবি প্রশাসনের ব্যবস্থা: সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে:
- পুরো ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
- ক্যাম্পাসে দেয়াল লিখন থেকে শিক্ষার্থীদের বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
- ফেসবুক পোস্ট ইস্যুতে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে কারণ দর্শানোর (Show Cause) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. ঢাবিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের কারণ কী?
উত্তর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে করা একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ডাকসু নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। থানায় পাল্টাপাল্টি জিডি করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাধে।
২. এই সংঘর্ষে কতজন আহত হয়েছেন?
উত্তর: শাহবাগ থানা এলাকায় হওয়া এই সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
৩. সাংবাদিকরা কেন হামলার শিকার হলেন?
উত্তর: শাহবাগ থানায় সংঘর্ষের সময় পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে ভিডিও ধারণ করতে গেলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।
৪. ঢাবি প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
উত্তর: প্রশাসন ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, দেয়াল লিখন নিষিদ্ধ করেছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।
৫. অভিযুক্ত ফেসবুক পোস্টটি কার ছিল?
উত্তর: ছাত্রদলের অভিযোগ ডাকসু নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের দিকে থাকলেও, মাহমুদ এবং ছাত্রশিবিরের দাবি এটি আওয়ামী লীগের একটি পেইজ থেকে ছড়ানো ফেক বা ভুয়া পোস্ট।
এই কনটেন্টটি সম্পূর্ণ তথ্যভিত্তিক এবং নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা। যেকোনো রাজনৈতিক সংঘাত বা ক্যাম্পাসের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সাম্প্রতিক সব খবরের আপডেটের জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।
আমি একজন জার্নালিস্ট। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জার্নালিজমে স্নাতক পাশ করেছি। বর্তমানে জাতীয় পত্রিকায় ফুল টাইম কাজ করছি। পাশাপাশি আমার নিজের নিউজ পোর্টাল BDTOPNEWS এ সময় দেই।