আপনি কি জানতে চাইছেন ঢাকা ১১ আসন কোন কোন এলাকা নিয়ে গঠিত? কিংবা আপনার বর্তমান বাসস্থানটি এই নির্বাচনী এলাকার আওতায় পড়ে কিনা? এটি একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, বিশেষ করে নতুন ভোটার বা যারা এলাকা পরিবর্তন করেছেন তাদের জন্য।
নিচে ঢাকা-১১ আসনের সীমানা, থানা এবং ওয়ার্ড-ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা খুব সহজভাবে তুলে ধরা হলো, যাতে আপনি এক নজরেই উত্তরটি পেয়ে যান।
ঢাকা-১১ আসনের এলাকা
ঢাকা-১১ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (DNCC) বাড্ডা থানা, রামপুরা থানা এবং ভাটারা থানার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। জাতীয় সংসদের এই আসন নং হলো ১৮৪।
প্রশাসনিকভাবে এই আসনের অন্তর্ভুক্ত প্রধান এলাকাগুলো হলো:
- থানা: বাড্ডা, রামপুরা ও ভাটারা।
- সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ড: ২১, ২২, ২৩, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ এবং ৪২ নং ওয়ার্ড।
ঢাকা ১১ আসনের বিস্তারিত ভৌগোলিক সীমানা
নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী ঢাকা-১১ আসনটি ঢাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জনবহুল এলাকা নিয়ে গঠিত। পাঠকদের সুবিধার্থে আমরা এলাকাগুলোকে থানা ও জনপ্রিয় স্থান অনুযায়ী ভাগ করেছি।
১. বাড্ডা থানা এলাকা
ঢাকা-১১ আসনের বিশাল একটি অংশ বাড্ডা থানা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে প্রধান প্রধান এলাকাগুলো হলো:
- মেরুল বাড্ডা: ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকা।
- মধ্য বাড্ডা ও উত্তর বাড্ডা: প্রগতি সরণির দুই পাশের জনবসতি।
- আফতাবনগর: জহুরুল ইসলাম সিটি বা আফতাবনগর আবাসিক এলাকা (ব্লক এ থেকে এফ পর্যন্ত অধিকাংশ এলাকা)।
- সাঁতারকুল ও বেরাইদ: বাড্ডার পূর্বাংশের গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকাগুলো।
২. রামপুরা থানা এলাকা
রামপুরা থানার আওতাধীন প্রায় পুরো অংশই এই আসনের অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখযোগ্য স্থানসমূহ:
- রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকা।
- বনশ্রী (অংশবিশেষ): বনশ্রী আবাসিক এলাকার প্রধান অংশগুলো এই আসনের ভোটারদের আওতায় পড়ে।
- মহানগর প্রজেক্ট ও উলন: হাতিরঝিল সংলগ্ন এলাকা।
- মালিবাগ চৌধুরীপাড়া (অংশ): ডিআইটি রোডের একাংশ।
৩. ভাটারা থানা (অংশবিশেষ)
ভাটারা থানার কিছু নির্দিষ্ট ওয়ার্ড ঢাকা-১১ আসনের সীমানায় পড়েছে। বিশেষ করে নতুন বাজার এবং বারিধারা সংলগ্ন কিছু এলাকা এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে (ওয়ার্ড সীমানা অনুযায়ী)।
ওয়ার্ড ভিত্তিক তালিকা
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (DNCC) নিচের ওয়ার্ডগুলো ঢাকা-১১ আসনের অন্তর্গত। আপনার কাউন্সিলর যদি এই ওয়ার্ডগুলোর হন, তবে আপনি ঢাকা-১১ আসনের ভোটার।
| ওয়ার্ড নং | প্রধান এলাকা ও ল্যান্ডমার্ক |
| ওয়ার্ড ২১ | মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট। |
| ওয়ার্ড ২২ | রামপুরা, উলন, মহানগর প্রজেক্ট। |
| ওয়ার্ড ২৩ | মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, খিলগাঁও (আংশিক)। |
| ওয়ার্ড ৩৭ | বাড্ডা, আফতাবনগর, পূর্ব বাড্ডা। |
| ওয়ার্ড ৩৮ | মধ্য বাড্ডা, উত্তর বাড্ডা (আংশিক)। |
| ওয়ার্ড ৩৯ | ভাটারা, নুরের চালা, খিলবাড়িরটেক। |
| ওয়ার্ড ৪০ | ভাটারা (উত্তর), ছোলমাইদ। |
| ওয়ার্ড ৪১ | সাঁতারকুল, বাড্ডা (পূর্ব)। |
| ওয়ার্ড ৪২ | বেরাইদ ও সংলগ্ন এলাকা। |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: নির্বাচনী সীমানা বিভিন্ন সময় নির্বাচন কমিশন (EC) দ্বারা পুনর্বিন্যাস বা “Delimitation” করা হতে পারে। তবে ২০২৬ সাল নাগাদ এই কাঠামোটিই কার্যকর রয়েছে।
ঢাকা-১১ আসন সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন
১. ঢাকা ১১ আসনের সংসদীয় আসন নম্বর কত?
জাতীয় সংসদে ঢাকা-১১ আসনের অফিশিয়াল নম্বর হলো ১৮৪ (Dhaka-184)। ব্যালট পেপার বা অফিসিয়াল নথিতে এই নম্বরটি ব্যবহৃত হয়।
২. বনশ্রী কি ঢাকা ১১ আসনের অন্তর্ভুক্ত?
হ্যাঁ, বনশ্রী আবাসিক এলাকার বড় একটি অংশ (বিশেষ করে রামপুরা থানার অধীনস্থ অংশ) ঢাকা-১১ আসনের অন্তর্ভুক্ত। তবে কিছু অংশ খিলগাঁও বা ঢাকা-৯ এর সীমানায় পড়তে পারে, তাই আপনার ওয়ার্ড নম্বরটি (২২ বা ২৩) যাচাই করা জরুরি।
৩. আফতাবনগর কোন নির্বাচনী এলাকায়?
আফতাবনগর মূলত ঢাকা-১১ আসনের অংশ। এটি বাড্ডা থানার ৩৭ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত।
৪. হাতিরঝিল এলাকা কোন আসনে পড়েছে?
হাতিরঝিলের রামপুরা ও বাড্ডা প্রান্তের অংশগুলো ঢাকা-১১ আসনের সীমানায় পড়ে। তবে মগবাজার বা তেজগাঁও অংশ ঢাকা-১২ এর অন্তর্ভুক্ত।
ভোটারদের জন্য কিছু টিপস
আপনি যদি এই এলাকার নতুন বাসিন্দা হন বা ভোট দিতে চান, তবে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:
- স্মার্ট কার্ড যাচাই: আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের পেছনে উল্লেখিত ঠিকানা বা ওয়ার্ড নম্বর দেখে নিশ্চিত হন।
- ভোট কেন্দ্র: নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে আপনার নির্দিষ্ট ভোট কেন্দ্র (Polling Station) জেনে নিন।
- সীমানা জটিলতা: ঢাকা শহরে পাশাপাশি দুটি বিল্ডিং ভিন্ন আসনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তাই “আমার এলাকা বাড্ডা” মানেই আপনি ঢাকা-১১ নাও হতে পারেন, যদি না আপনার ওয়ার্ড নম্বর এই তালিকার সাথে মেলে।
শেষকথা
আশা করি, ঢাকা ১১ আসন কোন কোন এলাকা নিয়ে গঠিত এই প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর আপনি পেয়েছেন। সংক্ষেপে, রামপুরা, বাড্ডা এবং ভাটারার ২১-২৩ এবং ৩৭-৪২ নং ওয়ার্ড নিয়েই এই আসন। তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বদা নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ডেটা অনুসরণ করি।
ডিসক্লেইমার: এই তথ্যগুলো বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পূর্ববর্তী গেজেট ও পাবলিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। প্রশাসনিক প্রয়োজনে সরকার সীমানা পরিবর্তন করতে পারে, তাই অফিসিয়াল কাজের জন্য সর্বদা সর্বশেষ গেজেট অনুসরণ করুন।
আমি একজন জার্নালিস্ট। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জার্নালিজমে স্নাতক পাশ করেছি। বর্তমানে জাতীয় পত্রিকায় ফুল টাইম কাজ করছি। পাশাপাশি আমার নিজের নিউজ পোর্টাল BDTOPNEWS এ সময় দেই।