রাজনীতিতে নাম লিখিয়েই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মমতার আপসহীন লড়াইকে ‘অনুপ্রেরণাদায়ক’ আখ্যা দিয়ে বিজয় তামিলনাড়ুতেও একই ধরনের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। বিজয়ের এই অবস্থান মোদির বিজেপির জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করেছে।
রাজনীতিতে থালাপতি বিজয়ের চমক এবং মমতার পাশে দাঁড়ানো
সুপারস্টার থালাপতি বিজয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই একের পর এক চমক দিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি প্রকাশ্য জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
- বিজয়ের মূল বক্তব্য: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অন্যায়ের প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই পুরো ভারতের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
- ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: পশ্চিমবঙ্গের মতো তামিলনাড়ুতেও বিজেপির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিরোধী জোটের ঐক্য: মমতার সমর্থনে আর কারা আছেন?
শুধুমাত্র দক্ষিণী তারকা থালাপতি বিজয় নন, ভারতের বিরোধী দলগুলোর হেভিওয়েট নেতারাও একজোট হয়ে মমতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। বিজেপির বিরুদ্ধে এই জোটে যারা সরব হয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:
- অখিলেশ যাদব (সমাজবাদী পার্টি)
- অরবিন্দ কেজরিওয়াল (আম আদমি পার্টি)
- হেমন্ত সোরেন (ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা)
- তেজস্বী যাদব: বিহারের আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব ইতিমধ্যে তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি অংশ নিয়েছেন।
মোদি ও অমিত শাহের বিরুদ্ধে মমতার তীব্র আক্রমণ কেন?
নির্বাচনী প্রচারণায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মোদি ও বিজেপির বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছেন। একাধিক জনসভায় তিনি বিজেপিকে “হানাদার” ও “হাল্লা বাহিনী” বলে তীব্র কটাক্ষ করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল অভিযোগগুলো হলো:
১. ভোট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ: মমতা সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভোট প্রক্রিয়ায় অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করছেন।
২. ভবানীপুর কেন্দ্র ও বহিরাগত ইস্যু: নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে বহিরাগতদের দিয়ে ভোট প্রভাবিত করার এবং ভোট লুটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
৩. কেন্দ্রীয় বাহিনীর অপব্যবহার: অমিত শাহকে ‘মোটা ভাই’ বলে কটাক্ষ করে মমতা জানান, এর আগে নন্দীগ্রামে সিআরপিএফ (CRPF) পাঠিয়ে ভোট প্রক্রিয়া ধীর করার চেষ্টা হয়েছিল যাতে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে না পারে।
৪. সামাজিক ইস্যু: কৃষক আত্মহত্যা, শ্রমিকদের বেকারত্ব এবং ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতিরও তীব্র সমালোচনা করেন তৃণমূল নেত্রী।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন ১: থালাপতি বিজয় কি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন?
উত্তর: হ্যাঁ, সুপারস্টার থালাপতি বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন এবং ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সরব অবস্থান নিয়েছেন।
প্রশ্ন ২: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজয় কেন সমর্থন করলেন?
উত্তর: নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মমতার আপসহীন লড়াই এবং বিজেপির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তার সাহসী অবস্থানকে সমর্থন জানাতেই বিজয় তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
প্রশ্ন ৩: ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়ে মমতার অভিযোগ কী?
উত্তর: মমতা অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি ভবানীপুর কেন্দ্রে বহিরাগতদের এনে ভোট প্রভাবিত করার এবং ভোট লুটের চেষ্টা করছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
শেষকথা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। থালাপতি বিজয়ের মতো জনপ্রিয় তারকার সমর্থন এবং বিরোধী জোটের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৃণমূল কংগ্রেসের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে। বিরোধী ঐক্য এবং তৃণমূলের আক্রমণাত্মক প্রচারের মুখে মোদির বিজেপি কতটা চাপে পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আমি একজন জার্নালিস্ট। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জার্নালিজমে স্নাতক পাশ করেছি। বর্তমানে জাতীয় পত্রিকায় ফুল টাইম কাজ করছি। পাশাপাশি আমার নিজের নিউজ পোর্টাল BDTOPNEWS এ সময় দেই।