পোস্টাল ভোট কি এবং কারা এই পদ্ধতিতে ভোট দিতে পারবেন?প্রবাসীরা কিভাবে ভোট দিবেন?

নির্বাচন কেন্দ্রে না গিয়েও ভোট দেওয়ার একটি বিশেষ ব্যবস্থার নাম হলো পোস্টাল ভোট (Postal Vote)। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির কল্যাণে এবং নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগে এই প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি ও জরুরি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি অনন্য সুযোগ।

পোস্টাল ভোট কি?

পোস্টাল ভোট বা পোস্টাল ব্যালট হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে একজন ভোটার সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত না হয়ে ডাকযোগের (Post) মাধ্যমে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ভোটার তার ঠিকানায় ব্যালট পেপার গ্রহণ করেন, সেখানে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন এবং পুনরায় সেটি ডাকযোগে নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেন।

পোস্টাল ভোট বিডি (Postal Vote BD) অ্যাপ

প্রবাসীদের ভোট প্রক্রিয়া সহজ করতে নির্বাচন কমিশন এই অ্যাপটি চালু করেছে।

  • রেজিস্ট্রেশন: গুগল প্লে-স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে আপনার এনআইডি (NID), পাসপোর্ট এবং প্রবাসে ব্যবহৃত ফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।
  • এনআইডি না থাকলে: যদি সাথে মূল এনআইডি কার্ড না থাকে, তবে এনআইডির অনলাইন কপি বা রঙিন ফটোকপি ব্যবহার করেও নিবন্ধনের চেষ্টা করা যেতে পারে।

পোস্টাল ভোট কারা দিতে পারবেন?

সবাই চাইলেই পোস্টাল ভোট দিতে পারেন না। বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির নাগরিক এই সুবিধার আওতায় পড়েন। তারা হলেন:

  • প্রবাসী বাংলাদেশি: যারা জীবিকা বা অন্য প্রয়োজনে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং ভোটকেন্দ্রে আসা সম্ভব নয়।
  • নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা: ভোটগ্রহণের দিন যারা প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বে থাকেন।
  • সরকারি চাকুরিজীবী: যারা কর্মস্থলের কারণে নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন।
  • কারাবন্দী ব্যক্তি: যারা আদালতে বিচারাধীন বা কারাগারে আটক রয়েছেন (তবে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের ক্ষেত্রে নিয়ম ভিন্ন হতে পারে)।
  • শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি: যারা অসুস্থতা বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কেন্দ্রে যেতে পারেন না।
  1. অ্যাপ ডাউনলোড: গুগল প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘Postal Vote BD’ লিখে সার্চ করে অফিশিয়াল অ্যাপটি ইনস্টল করুন।
  2. দেশ ও নম্বর নির্বাচন: অ্যাপ ওপেন করে আপনার বর্তমান দেশ সিলেক্ট করুন এবং নিজের সচল মোবাইল নম্বর দিন।
  3. ওটিপি ভেরিফিকেশন: মোবাইলে আসা ওটিপি (OTP) কোডটি দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করুন এবং একটি পাসওয়ার্ড সেট করুন।
  4. পরিচয় যাচাই (NID & Selfie): আপনার এনআইডি কার্ডের সামনের অংশের ছবি তুলুন। এরপর অ্যাপের ইনস্ট্রাকশন মেনে একটি লাইভ সেলফি তুলুন।
  5. ঠিকানা প্রদান: যে ঠিকানায় আপনি ব্যালট পেপার পেতে চান, সেই বিদেশি ঠিকানাটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে লিখুন।

প্রবাস থেকে ভোট দেওয়ার চূড়ান্ত পদ্ধতি

নিবন্ধন সফল হলে আপনার ঠিকানায় ডাকযোগে একটি পোস্টাল প্যাকেট আসবে। ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াটি নিচে দেওয়া হলো:

  • ব্যালট প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ: প্যাকেট পাওয়ার পর অ্যাপে লগ-ইন করে প্যাকেটের ওপর থাকা QR কোডটি স্ক্যান করুন।
  • প্রার্থী নির্বাচন: অ্যাপে আপনার আসনের প্রার্থীদের প্রতীক দেখে নিন। এরপর ব্যালট পেপারে আপনার পছন্দের প্রতীকের পাশে একটি টিক (✓) বা ক্রস (✕) চিহ্ন দিন।
  • ব্যালট প্রেরণ: ব্যালট পেপারটি ছোট খামে ভরে এবং ঘোষণাপত্রটি পূরণ করে বড় হলুদ খামে ঢুকিয়ে দিন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আপনার নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা পোস্ট বক্সে এটি জমা দিন।

পোস্টাল ভোটের সুবিধা কি?

  • ভোটাধিকার নিশ্চিত করা: দূরে থেকেও দেশের সরকার নির্বাচনে ভূমিকা রাখা যায়।
  • সময় ও অর্থ সাশ্রয়: প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার জন্য হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে দেশে আসার প্রয়োজন হয় না।
  • নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা: ডাকযোগে পাঠানো হলেও এই ভোটের গোপনীয়তা কঠোরভাবে রক্ষা করা হয়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

১. পোস্টাল ভোট কি সাধারণ ভোটের মতোই কার্যকর? হ্যাঁ, পোস্টাল ভোট সাধারণ কেন্দ্রের ভোটের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং চূড়ান্ত গণনায় এটি যোগ করা হয়।

২. প্রবাসীরা কোন অ্যাপ দিয়ে ভোট দেবেন? বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল অ্যাপ ‘Postal Vote BD’ ব্যবহার করে প্রবাসীরা নিবন্ধন ও ভোটের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

৩. পোস্টাল ব্যালট কি হাতে হাতে জমা দেওয়া যায়? না, নিয়ম অনুযায়ী এটি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে বা পোস্ট বক্সের মাধ্যমেই পাঠাতে হয়।

Leave a Comment