বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কে এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো মো. মোস্তাকুর রহমান। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি একজন কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (FCMA) এবং দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই শীর্ষ পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং ব্যাংকিং খাতে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এসেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সবারই নজর এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিকে। কারণ ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জিনিসপত্রের দাম সরাসরি তাদের নীতির সাথে যুক্ত। তাই দেশের মানুষের জানার আগ্রহ প্রবল যে, বর্তমান গভর্নর কে এবং তিনি আমাদের অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন।
নতুন গভর্নরের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
মো. মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ঐতিহ্যগতভাবে এই পদে অর্থনীতিবিদ বা আমলাদের নিয়োগ দেওয়া হলেও, এবারই প্রথম দীর্ঘ বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজনকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
- শিক্ষাজীবন: তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ এবং এমবিএ সম্পন্ন করেছেন।
- কর্মজীবন শুরু: ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক হিসেবে তিনি তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শুরু করেন।
- পূর্ব অভিজ্ঞতা: বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU), বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ এবং ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সর্বশেষ তিনি বিএফআইইউ-এর অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বর্তমান গভর্নরের প্রধান দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জসমূহ
একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদের মূল চিন্তার বিষয় হলো— ব্যাংকে রাখা আমাদের টাকা কতটা নিরাপদ এবং দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ কেমন থাকবে। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে নতুন গভর্নর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ও সংস্কার কর্মসূচি নির্ধারণ করেছেন:
১. খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন: ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত ঋণ বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
২. তারল্য ও আমানত ব্যবস্থাপনা: দেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণ ও আমানতের একটি স্বাস্থ্যকর অনুপাত (১:৮) বজায় রাখার বিষয়ে তিনি বিশেষ নজর দিচ্ছেন, যাতে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক হঠাৎ করে তারল্য বা নগদ টাকার সংকটে না পড়ে।
৩. বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করা: কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগমুখী প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
৪. সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে উচ্চ সুদের হার পর্যালোচনা করা। এর আগে ৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ অর্থনৈতিক পর্যালোচনা সভায় ব্যাংকিং খাতের যে রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, নতুন গভর্নর সেই ধারাবাহিকতা রেখেই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন ১: বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের মেয়াদ কত দিন?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী ৪ (চার) বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন ২: নতুন গভর্নর কি এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে যুক্ত ছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, মো. মোস্তাকুর রহমান ১৯৯৯ সাল থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে (যেমন: অফ-সাইট সুপারভিশন ও BFIU) কাজ করেছেন। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পলিসি সম্পর্কে তার গভীর ধারণা রয়েছে।
প্রশ্ন ৩: মো. মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে?
উত্তর: যেহেতু তিনি একই সাথে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভেতরের কার্যক্রম এবং দেশের বাস্তব ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন, তাই অর্থনীতিবিদরা আশা করছেন তিনি সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এবং বিনিয়োগ বাড়াতে বাস্তবসম্মত ভূমিকা রাখতে পারবেন।
উপসংহার: দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ভূমিকা অপরিসীম। মো. মোস্তাকুর রহমানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও বাস্তবমুখী সংস্কার পরিকল্পনা আমাদের ব্যাংকিং খাতে নতুন করে আস্থার সঞ্চার করবে বলে আশা করা যায়।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind BDTopNews.Com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.