বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে যাচ্ছে। সম্ভাব্য এই উচ্চকক্ষের (Upper House) ১০০ জন সদস্যের বসার স্থান নিয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয় নীরবে প্রস্তুতি শুরু করেছে। সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ণ রেখে কীভাবে এই নতুন আসন বিন্যাস করা হবে, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।
একনজরে: উচ্চকক্ষের ১০০ সদস্যের আসন
- বিষয়: বাংলাদেশের সংসদে উচ্চকক্ষ (Upper House) গঠনের প্রস্তুতি।
- সদস্য সংখ্যা: ১০০ জন।
- সম্ভাব্য স্থান: সংসদ ভবনের ৫ম তলার দর্শক গ্যালারি (দুটি গ্যালারি একত্রিত করে)।
- চ্যালেঞ্জ: লুই আই কানের মূল নকশা অক্ষুণ্ণ রাখা।
- বাস্তবায়ন: গণভোট ও ত্রয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে।
উচ্চকক্ষের সদস্যদের আসন নিয়ে কেন জটিলতা?
জাতীয় সংসদের মূল ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত বর্তমান অধিবেশন কক্ষে মোট ৩৫৪ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ জন নির্বাচিত এমপি, ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য এবং ৪ জন টেকনোক্রেট মন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় স্পিকারের আসনের দুই পাশের ১০০টি অতিথি আসন ব্যবহারের কথা ভাবা হলেও তা বাতিল করা হয়। কারণ, সেখানে সাধারণত বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিদেশি কূটনীতিকরা বসেন। তাদের জন্য বিকল্প জায়গা না থাকায় নতুন স্থানের খোঁজ শুরু হয়েছে।
কোথায় বসবেন উচ্চকক্ষের সদস্যরা?
সংসদ সচিবালয়, স্থাপত্য অধিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক বৈঠকের পর একটি বিকল্প পরিকল্পনা সামনে এসেছে:
- স্থান নির্বাচন: সংসদ ভবনের পঞ্চম তলায় ৫টি দর্শক গ্যালারি রয়েছে—শাপলা, শিউলি, বকুল, যমুনা ও শিমুল।
- প্রস্তাবনা: এই ৫টির মধ্যে পাশাপাশি অবস্থিত দুটি গ্যালারিকে একত্রিত করে উচ্চকক্ষের ১০০ সদস্যের বসার ব্যবস্থা করা হতে পারে।
- শর্ত: বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের (Louis I. Kahn) মূল নকশায় কোনো বড় পরিবর্তন আনা যাবে না।
কবে চালু হতে পারে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ?
এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের জন্য বেশ কিছু আইনি ও রাজনৈতিক ধাপ পার হতে হবে।
- নির্বাচন ও গণভোট: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই ‘জুলাই সনদের’ পক্ষে গণভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
- গণরায়: যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়, তবে বাংলাদেশ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থায় প্রবেশ করবে।
- সংবিধান সংশোধন: নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।
- সদস্য নির্বাচন: সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের সুবিধা কী?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উচ্চকক্ষ গঠন একটি উল্লেখযোগ্য সংস্কার। এর মাধ্যমে:
- আইন প্রণয়নে আরও গভীর আলোচনা ও পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে।
- বিভিন্ন পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের আইনসভায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে।
- ক্ষমতার ভারসাম্য (Check and Balance) বজায় রাখা সহজ হবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
পাঠকদের মনে জাগা কিছু প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের উত্তর যা গুগল সার্চে প্রায়ই খোঁজা হয়:
১. বাংলাদেশের সংসদে উচ্চকক্ষ কেন গঠন করা হচ্ছে?
‘জুলাই সনদ’ ও রাজনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আইন প্রণয়নে গুণগত মান বাড়াতে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে।
২. উচ্চকক্ষের সদস্যদের মেয়াদ কতদিন হবে?
উচ্চকক্ষের মেয়াদ নিম্নকক্ষের (বর্তমান জাতীয় সংসদ) শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত বজায় থাকবে।
৩. লুই আই কানের নকশা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন বিশ্বের অন্যতম সেরা স্থাপত্য নিদর্শন। এর মূল নকশা পরিবর্তন করা অত্যন্ত জটিল এবং সংবেদনশীল বিষয়, তাই যেকোনো সংস্কারে নকশা অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।
শেষকথা
জাতীয় সংসদ ভবনের এই অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকাঠামোর একটি বড় পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে। উচ্চকক্ষের সদস্যদের আসন বিন্যাস কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচিত সরকার ও সংসদের ওপরই নির্ভর করছে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক জাতীয় পত্রিকার রিপোর্ট ও সংসদ সচিবালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে।
আমি একজন জার্নালিস্ট। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জার্নালিজমে স্নাতক পাশ করেছি। বর্তমানে জাতীয় পত্রিকায় ফুল টাইম কাজ করছি। পাশাপাশি আমার নিজের নিউজ পোর্টাল BDTOPNEWS এ সময় দেই।