বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম-এর জৌলুস ফেরাতে এবং মুসল্লিদের ভোগান্তি কমাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১৯৯ কোটি (প্রায় ২০০ কোটি) টাকার একটি বৃহৎ সংস্কার প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় মসজিদের উত্তর-পূর্ব পাশে ১৬৪ ফুট উচ্চতার নতুন মিনার, পূর্ব পাশে ৮০ ফুট উচ্চতার গেট, অত্যাধুনিক অজুখানা, আধুনিক শৌচাগার, এস্কেলেটর (চলন্ত সিঁড়ি) এবং একটি তিনতলা মিলনায়তন নির্মাণ করা হবে।
বায়তুল মোকাররম সংস্কার প্রকল্পের বিস্তারিত
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম ১৯৬০ সালে কাবা ঘরের আদলে নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন বড় কোনো সংস্কার না হওয়ায় এর অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন এই নতুন মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
ব্যয়ের খাতসমূহ (একনজরে):
প্রকল্পের মোট ১৯ কোটি টাকার একটি বড় অংশ খরচ হবে অবকাঠামো উন্নয়নে:
- অবকাঠামো (মিনার, গেট ও ভবন): ১২৫ কোটি টাকা।
- বিদ্যুৎ সংযোগ ও আধুনিকায়ন: ২৪ কোটি টাকা।
- অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা: ৭ কোটি টাকা।
মুসল্লিদের জন্য কী কী নতুন সুবিধা যুক্ত হচ্ছে?
সাধারণ মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল মসজিদের অপরিষ্কার শৌচাগার এবং পর্যাপ্ত ওজুখানার অভাব নিয়ে। এই প্রকল্প মূলত এই সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে:
- আধুনিক শৌচাগার ও অজুখানা: ইতিমধ্যে ৭০টি নতুন বাথরুম নির্মাণ করা হয়েছে। নারী ও পুরুষ উভয় মুসল্লিদের জন্য আলাদা ও আধুনিক ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করা হবে।
- এস্কেলেটর বা চলন্ত সিঁড়ি: বয়স্ক ও অসুস্থ মুসল্লিদের ওপরের তলায় যাতায়াতের সুবিধার্থে নতুন এস্কেলেটর বসানো হবে।
- নতুন মিনার ও প্রবেশপথ: মসজিদের উত্তর-পূর্ব পাশে ১৬৪ ফুট উঁচু মিনার এবং পূর্ব পাশে ৮০ ফুট উঁচু একটি নান্দনিক গেট তৈরি হবে যা মসজিদের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
- ওয়াকওয়ে ও মিলনায়তন: পশ্চিম ও উত্তর দিকে প্রশস্ত ওয়াকওয়ে এবং একটি তিনতলা বিশিষ্ট আধুনিক মিলনায়তন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বায়তুল মোকাররমের স্থাপত্য ও ইতিহাস
- স্থপতি: আব্দুল হোসাইন এম. থারিয়ানি।
- নকশা: মক্কার পবিত্র কাবা শরীফের আদলে নির্মিত।
- ধারণক্ষমতা: বর্তমানে এই মসজিদে প্রায় ৪০,০০০ মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন।
- পূর্বের সংস্কার: ১৯৮৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সৌদি সরকারের অর্থায়নে কিছু সংস্কার কাজ করা হয়েছিল।
কেন এই সংস্কার প্রয়োজন?
মসজিদে আসা নিয়মিত মুসল্লিদের মতে, ওজুখানায় পানির সমস্যা, শৌচাগারের সিটকারি নষ্ট থাকা এবং নোংরা পরিবেশের কারণে ইবাদতে বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে জুমার নামাজ এবং দুই ঈদের সময় মুসল্লিদের চাপ সামলাতে বর্তমান অবকাঠামো হিমশিম খাচ্ছে। ২০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বায়তুল মোকাররম তার হারানো জৌলুস ফিরে পাবে এবং এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের ইসলামিক কমপ্লেক্সে পরিণত হবে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
১. বায়তুল মোকাররম সংস্কারে কত টাকা খরচ হবে?
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রস্তাব অনুযায়ী এই সংস্কার প্রকল্পে মোট ১৯৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
২. নতুন মিনারের উচ্চতা কত হবে?
প্রস্তাবিত নতুন মিনারের উচ্চতা হবে ১৬৪ ফুট।
৩. সাধারণ মুসল্লিরা কি এখন নামাজ পড়তে পারবেন?
হ্যাঁ, সংস্কার চলাকালীনও নির্ধারিত স্থানে নামাজ আদায় করা যাবে। মূলত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্যই এই উন্নয়ন কাজ চলছে।
সোর্স: একাত্তর টিভি বিশেষ প্রতিবেদন (১০ জানুয়ারি, ২০২৬)।
আমি একজন জার্নালিস্ট। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জার্নালিজমে স্নাতক পাশ করেছি। বর্তমানে জাতীয় পত্রিকায় ফুল টাইম কাজ করছি। পাশাপাশি আমার নিজের নিউজ পোর্টাল BDTOPNEWS এ সময় দেই।