নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা ও আচরণবিধিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। আপনি যদি একজন রাজনৈতিক কর্মী, প্রার্থী কিংবা সচেতন ভোটার হন, তবে ২০২৬ সালের এই নতুন সংশোধনীগুলো জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই আর্টিকেলে আমরা সহজ ভাষায় জানব, নতুন গেজেট অনুযায়ী ভোটার স্লিপ ও মাইক ব্যবহারে কী কী পরিবর্তন এসেছে।
এক নজরে: আচরণ বিধিমালা ২০২৬-এর মূল পরিবর্তন
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গত ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর দুইটি প্রধান সংশোধনী এনেছে। ১. ভোটার স্লিপের আকার: এখন থেকে ভোটার স্লিপের আকার ১২ সেন্টিমিটার x ৮ সেন্টিমিটারের বেশি হতে পারবে না । ২. মাইক বা লাউড স্পিকার ব্যবহার: কোনো প্রার্থী বা তার প্রতিনিধি নির্বাচনী জনসভায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে পারবেন, যা আগে সীমিত ছিল ।
আচরণ বিধিমালার নতুন সংশোধনীগুলো কী কী?
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে মূলত বিধি ৮ এবং বিধি ১৭-তে পরিবর্তন আনা হয়েছে । চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক:
১. ভোটার স্লিপের আকার নির্ধারণ (বিধি ৮-এর সংশোধন)
আগের নিয়মে ভোটার স্লিপের আকার নিয়ে হয়তো ভিন্নতা ছিল, কিন্তু নতুন গেজেট অনুযায়ী এটি এখন সুনির্দিষ্ট।
- নতুন নিয়ম: এখন থেকে ভোটার স্লিপের সাইজ বা আকার অবশ্যই ১২ সে.মি. (দৈর্ঘ্য) এবং ৮ সে.মি. (প্রস্থ)-এর মধ্যে হতে হবে ।
- কেন এই নিয়ম? অতিরিক্ত বড় স্লিপ বা পোস্টার সদৃশ স্লিপ ব্যবহার করে প্রচারণার অপকৌশল রোধ এবং কাগজের অপচয় কমানোর জন্য এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২. জনসভায় মাইক ব্যবহারের সুবিধা (বিধি ১৭-এর সংশোধন)
নির্বাচনী প্রচারণায় জনসভা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শব্দদূষণ রোধে আগে মাইক ব্যবহারে কড়াকড়ি থাকলেও জনসভার ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা আনা হয়েছে।
- নতুন নিয়ম: কোনো নির্বাচনী এলাকার একক জনসভায় প্রার্থী বা তার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে ।
- আগের ও বর্তমানের পার্থক্য: আগে হয়তো নির্দিষ্ট সংখ্যক মাইক ব্যবহারের বাউণ্ডারি ছিল, কিন্তু এখন জনসভার আয়তন ও লোকসমাগম অনুযায়ী “প্রয়োজনীয় সংখ্যক” শব্দটি যুক্ত করে প্রার্থীদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
এই পরিবর্তনগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তগুলো (S.R.O. No. 39-Law/2026) তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে । এর গুরুত্ব হলো:
- স্বচ্ছতা বৃদ্ধি: ভোটার স্লিপের আকার নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হবে।
- প্রচারণায় সুবিধা: বড় জনসভায় পেছনের শ্রোতাদের কাছে বক্তব্য পৌঁছানোর জন্য পর্যাপ্ত মাইক ব্যবহারের অনুমতি প্রার্থীদের প্রচারণাকে সহজ করবে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের ফলাফল
প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল যদি এই নতুন নিয়মগুলো (যেমন- ১২x৮ সে.মি. এর বড় স্লিপ ছাপানো) অমান্য করেন, তবে নির্বাচন কমিশন Representation of the People Order, 1972-এর অনুচ্ছেদ ৯১বি (Article 91B) অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে । এর ফলে জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল বা অন্যান্য আইনানুগ শাস্তি হতে পারে।
শেষকথা
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সঠিক আচরণবিধি মেনে চলা অপরিহার্য। ২০২৬ সালের এই সংশোধনীগুলো নির্বাচনী প্রচারণাকে আরও সুশৃঙ্খল এবং বাস্তবসম্মত করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। আপনি যদি একজন সচেতন নাগরিক হন, তবে এই নিয়মগুলো জেনে রাখা আপনার দায়িত্ব।
দ্রষ্টব্য: এই আর্টিকেলের তথ্য বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) থেকে সংগৃহীত। যেকোনো আইনি ব্যাখ্যার জন্য মূল গেজেটটি দেখে নেওয়ার অনুরোধ রইল ।
আমি একজন জার্নালিস্ট। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জার্নালিজমে স্নাতক পাশ করেছি। বর্তমানে জাতীয় পত্রিকায় ফুল টাইম কাজ করছি। পাশাপাশি আমার নিজের নিউজ পোর্টাল BDTOPNEWS এ সময় দেই।