আমেরিকা মানেই যেন সোনার হরিণ। আর সেই সোনার হরিণ ধরতে এবার খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়ে এলেন এক নতুন চমক “ট্রাম্প গোল্ড ভিসা” (Trump Gold Visa)। ২০২৫ সালের শেষের দিকে ট্রাম্প প্রশাসনের চালু করা এই ভিসা কর্মসূচি ধনী বিদেশিদের জন্য আমেরিকার নাগরিকত্ব পাওয়ার এক রাজকীয় সুযোগ।
কিন্তু কী এই গোল্ড ভিসা? এর খরচ কত? আর সত্যিই কি টাকার বিনিময়ে কেনা যাবে আমেরিকার গ্রিন কার্ড? এই আর্টিকেলে আমরা জানব ট্রাম্প গোল্ড ভিসার আদ্যোপান্ত।
ট্রাম্প গোল্ড ভিসা কী?
দ্রুত তথ্য জানার জন্য এই অংশটি গুগলের ফিচারড স্নিপেটের জন্য অপটিমাইজ করা হয়েছে:
- ভিসার নাম: ট্রাম্প গোল্ড কার্ড (Trump Gold Card)।
- উদ্দেশ্য: ধনী ও মেধাবী বিদেশিদের দ্রুত নাগরিকত্ব প্রদান।
- আবেদন ফি: ১৫,০০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৮ লাখ টাকা)।
- ভিসা ফি (উপহার): ১০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১২ কোটি টাকা (ব্যক্তিগত)।
- সুবিধা: গ্রিন কার্ডের চেয়েও শক্তিশালী; দ্রুত নাগরিকত্ব ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ।
- অফিসিয়াল ওয়েবসাইট:
trumpcard.gov(সূত্রে প্রাপ্ত)।
টাকার বিনিময়ে নাগরিকত্ব?
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ এই ভিসার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে তিনি নিশ্চিত করেন যে, এই ভিসা হবে ধনী এবং যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য আমেরিকার নাগরিক হওয়ার “সবচেয়ে সহজ ও দ্রুততম পথ”।
সহজ কথায়, আপনার যদি পর্যাপ্ত টাকা থাকে এবং কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকে, তবে দীর্ঘ বছরের অপেক্ষা ছাড়াই আপনি হতে পারেন আমেরিকার স্থায়ী বাসিন্দা।
খরচ কত?
ট্রাম্প গোল্ড ভিসা পেতে হলে আপনাকে বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হবে। ভিডিওর তথ্য এবং বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী এর খরচ নিচে দেওয়া হলো:
১. প্রাথমিক আবেদন ফি: ১৫,০০০ ডলার (প্রায় ১৮ লাখ ২২ হাজার টাকা)। এই টাকা অফেরতযোগ্য। ২. মূল ভিসা ফি (Gift): আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে (Vetting) টিকে গেলে আপনাকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ১০ লাখ ডলার (প্রায় ১২ কোটি ১৪ লাখ টাকা) দিতে হবে। ওয়েবসাইটে এই বিশাল অঙ্কটিকে “উপহার” (Gift) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোট: এই টাকা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা হবে এবং দেশটির কোষাগারকে সমৃদ্ধ করবে।
কারা পাবেন এই গোল্ডেন টিকেট?
বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক জানিয়েছেন, এই ভিসা সবার জন্য নয়। এটি মূলত দুই ধরণের মানুষকে টার্গেট করে আনা হয়েছে:
- আল্ট্রা-রিচ ইনভেস্টর: যাদের প্রচুর অলস অর্থ আছে এবং দ্রুত নাগরিকত্ব চান।
- মেধাবী কর্মী: মার্কিন কোম্পানিগুলো তাদের সেরা মেধাবী কর্মীদের ধরে রাখতে এই ভিসার মাধ্যমে স্পনসর করতে পারবে।
ইতোমধ্যেই প্রাক-নিবন্ধন বা প্রি-রেজিস্ট্রেশনে প্রায় ১০,০০০ আবেদন জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।
গ্রিন কার্ড বনাম গোল্ড ভিসা
অনেকেই প্রশ্ন করছেন, সাধারণ গ্রিন কার্ড থাকতে গোল্ড ভিসা কেন?
- সময়: সাধারণ গ্রিন কার্ড পেতে যেখানে বছরের পর বছর (কখনও ১০-১২ বছর) অপেক্ষা করতে হয়, গোল্ড ভিসায় সেটি কয়েক সপ্তাহের ব্যপার মাত্র।
- মর্যাদা: ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, এটি গ্রিন কার্ডের চেয়েও “উন্নত ও শক্তিশালী”।
- নিশ্চয়তা: এটি নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি ডিরেক্ট পাথওয়ে বা সরাসরি রাস্তা।
বিতর্ক ও সমালোচনা
এই গোল্ড ভিসা নিয়ে সমালোচনার ঝড়ও কম নয়।
- ধনী বনাম গরিব: ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড় ও ফেরত পাঠানো শুরু করেছে। অথচ একই সময়ে ধনীদের জন্য টাকার বিনিময়ে দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। সমালোচকরা একে “দ্বিমুখী নীতি” বলছেন।
- বৈধতার প্রশ্ন: অর্থের বিনিময়ে নাগরিকত্ব বিক্রি নৈতিকভাবে কতটা সঠিক, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন: ট্রাম্প গোল্ড ভিসার দাম কত?
উত্তর: প্রাথমিক আবেদন ফি ১৫,০০০ ডলার এবং ভিসা নিশ্চিত হলে ১০ লাখ ডলার (প্রায় ১২ কোটি টাকা) দিতে হয়।
প্রশ্ন: এই ভিসা দিয়ে কি সরাসরি নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে?
উত্তর: এটি মূলত স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা রেসিডেন্সি পারমিট, যা গ্রিন কার্ডের সমতুল্য। তবে এটি সাধারণ প্রক্রিয়ার চেয়ে অনেক দ্রুত আপনাকে মার্কিন নাগরিকত্বের পথে নিয়ে যাবে।
প্রশ্ন: ট্রাম্প গোল্ড ভিসার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট কোনটি?
উত্তর: মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, trumpcard.gov নামের ওয়েবসাইটে এই ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।
শেষ কথা
“ট্রাম্প গোল্ড ভিসা” মার্কিন অর্থনীতির জন্য হয়তো শত কোটি ডলার আয়ের উৎস হবে, কিন্তু সাধারণ অভিবাসীদের জন্য এটি এক দীর্ঘশ্বাসের নাম। একদিকে অর্থের জৌলুসে মিলছে নাগরিকত্ব, অন্যদিকে কাগজপত্রের অভাবে ফিরতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। আমেরিকার স্বপ্নের এই নতুন সংস্করণে ‘টাকা’ই কি তবে শেষ কথা?
(সতর্কবার্তা: ভিসা নীতি ও ফি পরিবর্তনশীল। আবেদনের আগে অবশ্যই ইউএস ইমিগ্রেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চেক করুন।)
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind BDTopNews.Com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.