ফ্যামিলি কার্ড হলো একটি ডেটাবেস-ভিত্তিক বিশেষ ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড। দেশের বেকার, দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি দিতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি সরকারের একটি বড় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো প্রতি মাসে নিয়মিত সরকারি আর্থিক অনুদান বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাবে।
ফ্যামিলি কার্ডের প্রধান সুবিধাসমূহ
- আর্থিক সহায়তা: প্রতিটি কার্ডধারী পরিবারকে প্রতি মাসে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থ দেওয়া হবে। এটি বর্তমানে প্রচলিত বয়স্ক বা বিধবা ভাতার চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ।
- খাদ্য নিরাপত্তা: ক্ষেত্রবিশেষে টাকার পাশাপাশি বা পরিবর্তে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও লবণের মতো নিত্যপণ্য সুলভ মূল্যে বা বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।
- নারীর ক্ষমতায়ন: ভাতার টাকা সরাসরি পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর নামে প্রদান করা হবে।
- সহজ লেনদেন: টাকা সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ/রকেট) বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সুবিধাভোগীর হাতে পৌঁছাবে।
আবেদন করতে কী কী লাগবে?
ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াটি সরকারিভাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যাবে। আবেদনের জন্য মূলত নিচের তথ্যগুলো লাগবে:
১. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID কার্ড)।
২. পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
৩. একটি সচল মোবাইল নম্বর (যেটিতে মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা চালু আছে বা করা যাবে)।
কীভাবে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন বা আবেদন করবেন?
আবেদন প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে:
- পাইলট প্রজেক্ট (ঈদের আগে): আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই মাদারীপুরের শিবচরসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হবে। এই পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, মেম্বার বা কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে সরাসরি ফর্ম সংগ্রহ করে আবেদন করতে হবে।
- অনলাইন পোর্টাল: প্রক্রিয়াটি দুর্নীতিমুক্ত ও সহজ করতে সরকার খুব শিগগিরই একটি ডেডিকেটেড ‘ফ্যামিলি কার্ড অনলাইন পোর্টাল’ এবং অ্যাপ চালু করবে। সেটি উন্মুক্ত হলে ঘরে বসে স্মার্টফোনের মাধ্যমেই এনআইডি (NID) ব্যবহার করে আবেদন করা যাবে।
আমি একজন জার্নালিস্ট। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জার্নালিজমে স্নাতক পাশ করেছি। বর্তমানে জাতীয় পত্রিকায় ফুল টাইম কাজ করছি। পাশাপাশি আমার নিজের নিউজ পোর্টাল BDTOPNEWS এ সময় দেই।