সংক্ষেপে উত্তর
ইচ্ছাকৃত পানাহার, স্ত্রী সহবাস ও ধূমপানে রোজা ভেঙে যায়, এবং এসব ক্ষেত্রে কাজা ও কাফফারা দুটোই লাগে। ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি, অনিচ্ছায় কুলির পানি গলায় যাওয়া, সময়ের ভুলে সেহরি বা ইফতার, হায়েজ-নিফাস ইত্যাদি কারণে রোজা ভাঙে, তবে শুধু কাজা করতে হয়। ভুলে খেলে রোজা ভাঙে না।
রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। রোজা সঠিকভাবে রাখতে হলে জানা দরকার কোন কাজে রোজা ভেঙে যায় আর কোন কাজে ভাঙে না। নিচের তালিকাটি বাংলাদেশে প্রচলিত হানাফি মাযহাবের মত অনুযায়ী সাজানো। কোনো বিষয়ে সন্দেহ থাকলে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছে জেনে নিন।
কাজা ও কাফফারা কী?
কাজা মানে ভেঙে যাওয়া রোজার বদলে পরে একটি রোজা রাখা। কাফফারা মানে ইচ্ছাকৃতভাবে রমজানের রোজা ভাঙার শাস্তিস্বরূপ একটানা ৬০টি রোজা রাখা। তা সম্ভব না হলে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরে খাওয়ানো।
রোজা ভঙ্গের ১৯টি কারণ
যেসব কারণে কাজা ও কাফফারা দুটোই লাগে
- রোজার কথা মনে থাকা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু খাওয়া বা পান করা।
- রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সহবাস করা।
- ধূমপান করা। সিগারেট, বিড়ি, হুক্কা ও ই-সিগারেট সবই এর মধ্যে পড়ে।
- খাদ্য বা ওষুধ হিসেবে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু মুখ দিয়ে গিলে ফেলা।
যেসব কারণে শুধু কাজা লাগে
- ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করা।
- মুখে চলে আসা বমি ইচ্ছা করে আবার গিলে ফেলা।
- কুলি করা বা নাকে পানি দেওয়ার সময় রোজার কথা মনে থাকা অবস্থায় অনিচ্ছায় পানি গলায় চলে যাওয়া।
- দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা ছোলা পরিমাণ বা তার চেয়ে বড় খাবার গিলে ফেলা।
- পাথর, কাগজ, মাটির মতো অখাদ্য কিছু গিলে ফেলা।
- নাক বা কানে তেল বা ওষুধ প্রবেশ করানো।
- পায়ুপথে ওষুধ বা এনিমা নেওয়া।
- সুবহে সাদিক হয়ে গেছে অথচ রাত বাকি আছে ভেবে সেহরি খাওয়া।
- সূর্য ডোবার আগেই ডুবে গেছে ভেবে ইফতার করে ফেলা।
- মহিলাদের হায়েজ (মাসিক) শুরু হওয়া।
- সন্তান জন্মের পর নিফাস শুরু হওয়া।
- স্পর্শ বা অন্য কোনো উপায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটানো।
- ভুলে খাওয়ার পর রোজা ভেঙে গেছে ভেবে আবার ইচ্ছা করে খাওয়া।
- আগরবাতি বা অন্য কোনো ধোঁয়া ইচ্ছাকৃতভাবে নাকে টেনে নেওয়া।
- দাঁত মাজার সময় টুথপেস্ট বা মাজন গলায় চলে যাওয়া।
মনে রাখুন: রমজানের রোজার জন্য নিয়ত জরুরি। দুপুরের আগে (শরয়ি অর্ধদিবসের আগে) নিয়ত না করলে সেদিনের রোজা আদায় হয় না।
যেসব কাজে রোজা ভাঙে না
- ভুলে খাওয়া বা পান করা। মনে পড়ামাত্র থেমে গেলে রোজা ঠিক থাকে।
- অনিচ্ছায় বমি হওয়া, তা মুখ ভরে হলেও।
- মিসওয়াক করা।
- চোখে সুরমা বা ড্রপ দেওয়া।
- স্বপ্নদোষ হওয়া।
- রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া।
- মাংসপেশি বা শিরায় সাধারণ ইনজেকশন নেওয়া। অধিকাংশ আলেমের মতে এতে রোজা ভাঙে না, তবে পুষ্টির স্যালাইন নিয়ে মতভেদ আছে।
- গোসল করা বা গরমে মাথায় পানি দেওয়া।
- নিজের মুখের থুথু গিলে ফেলা।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
না। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কেউ ভুলে খেলে বা পান করলে সে যেন রোজা পূর্ণ করে, কারণ আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)।
যাবে, তবে খুব সাবধানে, যাতে পেস্ট বা পানি গলায় না যায়। মিসওয়াক ব্যবহার করা উত্তম।
অধিকাংশ আলেমের মতে ইনহেলারে রোজা ভেঙে যায়, কারণ ওষুধের কণা গলা দিয়ে ভেতরে যায়। শ্বাসকষ্টের রোগী হলে চিকিৎসক ও আলেমের পরামর্শ নিন।
“I’m Md Parvez Hossen, a professional blogger and SEO expert living in the USA. As the driving force behind BDTopNews.Com, I’m dedicated to delivering highly relevant, accurate, and authoritative content. My goal is to ensure readers always find the reliable information they need.